মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ভাষা ও সংস্কৃতি

খাল নদী বিল পরিবেষ্টিত মধুপুর লোকচরিত্র অত্যন্ত সরল ও স্বচ্ছ। অল্পে তুষ্টি, পরমত সহিষ্ণুতা এবং সরল জীবন-যাপন মধুপুরের লোকচরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট। তারা ভদ্র, বিনয়ী এবং অতিথি পরায়ণ। পারস্পরিক সংঘাত জটিলতা এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নীতিতে বিশ্বাসী। দীর্ঘদিন উন্নয়ন বঞ্চিত থেকে এলাকার মানুষজন আলোর পথে এগিয়ে আসার জন্য উম্মুখ। এরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহজ সরল। যুক্তিসংগত সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল এলাকার জনগণ জনকল্যাণমূলক যে কোন পদক্ষেপের সাথে একমত। সাম্প্রতিককালে মধুপুর বাসষ্ট্যান্ড চওড়াকরণ,মধুপুর বাজারে লোক চলাচলের রাস্তা সম্প্রসারণ, উপজেলার বিভিন্ন বাজার থেকে মান্ধাতার আমলের ঝাপ পরিবর্তন করে আধুনিক সাটার স্থাপন, শিক্ষার মান উন্নয়ন, সর্বোপরি জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কাঁচা পায়খানা উচ্ছেদসহ স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ব্যবহারে উদ্যোগী হয়ে তারা তাদের লোকচরিত্রের এক উজ্জল দিককে উম্মোচন করেছেন। তারা সুস্থ সামাজিক চেতনায় বিশ্বাসী। এখনও তারা বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে আদালত পর্যন্ত না গিয়ে দায়িত্বশীল সমাজপতিদের মাধ্যমে নিজেদের সমস্যা নিরসন করে থাকেন। মধুপুর উপজেলার সকল ইউনিয়নে এ চিত্র লক্ষ্যণীয়। মধুপুরের নদী, মাটি, সবুজ ধানক্ষেত এবং পাহাড়ী বন ,আনারস মধুপুরের মানুষকে যান্ত্রিক কৃত্রিমতা থেকে এখনও দুরে রেখেছে। তাই মধুপুরের লোকচরিত্র এখনও মোহনীয় এবং সাবলীল। সামাজিক রীতি-নীতিতে মধুপুরের ঐতিহ্য রয়েছে। সাধারণত অতিথি সেবা এবং বেড়ানোর ক্ষেত্রে মধুপুরের লোকেরা পাহাড়ী দৃশ্য বেছে নিতেন। কখনও কখনও যে এর ব্যত্যয় হতো না তা নয়। শুকনো মৌসুমে নববধূকে বাড়ীতে নেবার ক্ষেত্রে ডুলি এবং পালকির প্রচলন ছিল। বিশালদেহী উড়িয়া বেহারাগণ পালকি কাঁধে নিয়ে যেতেন গন্তব্যের দিকে। রাস্তা ঘাটের ফলে এখন আর পালকি-ডুলির প্রচলন নেই বটে। এখানে অতিথি আপ্যায়নে খাবার শেষে দুধ ভাত এবং কলা ছিল অত্যাবশ্যকীয়। মধুপুরের ঐতিহ্য মন্ডিত পুরাতন বাড়িসমূহে এর প্রচলন এখনও রয়েছে। নতুন আত্মীয় বেড়াতে এলে বিদায়ের সময় প্রত্যেককে উপঢৌকন স্বরূপ বস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী প্রদানের রেওয়াজ এখানে ছিল।

ছবি